মৌসুমি ফলের সমাহার বরগুনার পাথরঘাটায় আয়াতুল্লা এগ্রিকালচার ফার্মে। ২৭ ধরনের ফলের মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় সাড়ে চার কেজি ওজনের ‘জমিদার ফজলি’ আম। এই আম কেউ একবার দেখলেই চোখ জুড়িয়ে যাবে।

আয়াতুল্লা এগ্রিকালচার ফার্মের এ আম দেখার জন্য বিভিন্ন এলাকা থেকে ছুটে আসছে উৎসুক মানুষ। তাদের মধ্যে কেউ কেউ আবার ‘জমিদার ফজলি’ আমের পাশাপাশি বিভিন্ন ফল কিনে নিয়ে যাচ্ছে।

পাথরঘাটা পৌর শহর থেকে আড়াই কিলোমিটার পশ্চিমে সদর ইউনিয়নের উত্তর হাতেমপুর গ্রামের আসাদুজ্জামান রাসেল। উচ্চশিক্ষা শেষ করে উদ্যোগী হন কৃষিকাজে। বাবার ২৬ বিঘা জমিতে প্রথমবারের মতো চাষ করেন ড্রাগন ফল। তিন বছর ধরে এই ফল বিক্রি করে লাভবান তিনি।

ড্রাগন গাছের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ফলগাছে এ বছর ফল ধরেছে অনেক। এর মধ্যে ভিয়েতনাম থেকে আনা আটটি বিভিন্ন জাতের আমগাছে প্রচুর আম হয়েছে। ফজলি আমগুলো প্রতিটি চার থেকে সাড়ে চার কেজি ওজনের। এখনো আমগুলো কাঁচা। প্রতিটি আম জাল দিয়ে বেঁধে রেখেছেন। ফজলি আমের গাছগুলো ছোট হলেও প্রতিটি গাছে ৩০ থেকে ৪০টি আম হয়েছে।

রাসেল বলেন, লেখাপড়া শেষ করে বেকার জীবন। রাতে ঘুমানোর আগে মোবাইল ফোনে দেশ-বিদেশের খবর পড়তাম। এর মধ্যে ইউটিউবে কৃষির ওপর বিভিন্ন ধরনের প্রতিবেদন দেখে শখ করে ড্রাগন চাষ শুরু করি। তিন লাখ টাকা ব্যয়ে ড্রাগন ফলের বাগান করি। আরো নানা প্রকার ফল গাছ লাগিয়েছিলাম। এবার প্রাই সব গাছে ফল ধরেছে। এরই মধ্যে অনেক টাকার ফল বিক্রি করেছি।

তিনি আরো বলেন, বেকার জীবন কাটিয়ে এখন লাভের মুখ দেখছি। এ কারণে বাণিজ্যিকভাবেই এই ফার্ম তৈরি করছি। এই বাগান থেকে এরই মধ্যে ২৭ ধরনের মৌসুমি ফল বাজারজাত করেছি। আশা করি, ১২ মাস বাজারে উন্নত মানের ফল সরবরাহ করতে পারব।

পাথরঘাটা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শিশির কুমার বড়াল বলেন, তরুণ রাসেল হাতেমপুর গ্রামে কৃষিতে বিপ্লব ঘটিয়েছেন। আমরা তাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করছি। এ অঞ্চলে এ ধরনের ফল বাগান আর কোথাও দেখা যাচ্ছে না।

তিনি আরো বলেন, পাথরঘাটায় আয়াতুল্লা এগ্রিকালচার ফার্মের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ফল সাড়ে চার কেজি ওজনের ফজলি আম। এ আমের নাম দেওয়া হয়েছে ‘জমিদার ফজলি’। এছাড়া তিন ফল, পাচিমন, আলুবোখারা, করোছলের ফলন অনেক ভালো হয়েছে ফার্মটিতে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here